Tripura Chess: তৃতীয় আন্তর্জাতিক মাস্টারের নর্ম  দখল করলো  দাবাড়ু আর্শিয়া।

IMG 20260206 WA0036

টিএসএন ডেস্ক, ৬ ফেব্রুয়ারি।।
      বিশ্ব ক্রীড়া আসরে ত্রিপুরাকে একসময় অনেকটা উপরে তুলে ধরেছিলেন জিমন্যাস্ট দীপা কর্মকার। এবার আবার ত্রিপুরাকে অনেকটাই উপরে তুলে ধরলো দাবাড়ু আর্শিয়া দাস। পূর্বোত্তরের প্রথম বালিকা দাবাড়ু হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল মাস্টারের সম্মান অর্জন করল পূর্ণেন্দু এবং অর্নিশা দাসের একমাত্র মেয়েটি। সার্বিয়াতে অনুষ্ঠিত ৪৮ তম রুদার ইন্টারনেশনাল মাস্টার রাউন্ড রবিন চেস আসরে দুরন্ত পারফরম্যান্স করে তৃতীয় আন্তর্জাতিক মাস্টারের নর্ম  দখল করে নেয় হোলিক্রস স্কুলের নবম শ্রেণী ছাত্রীটি। এক সময় আসরে শীর্ষস্থানে ছিল ম্যাট্রিক্স চেস একাডেমির ছাত্রীটি। কিন্তু শেষের দিকে কিছুটা পিছিয়ে পড়ে। আর্শিয়ার দুরন্ত সাফল্য রাজ্যের দাবা প্রেমীদের মধ্যে খুশির হাওয়া। মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে ক্রীড়ামন্ত্রী অভিনন্দন জানিয়েছেন সোনার মেয়েটিকে। গেলো বছর অক্টোবর মাস থেকেই স্বপ্নের ফর্মে ছিলো আর্শিয়া। অনূর্ধ্ব ১৫ জাতীয় আসরে ভারত সেরা সম্মান পাওয়ার পর জাতীয় স্কুল আসরে স্বর্ণপদক, জাতীয় সিনিয়র মহিলা আসরে ব্রোঞ্জ পদক জয় করে নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছিলো। এবার আর্শিয়ার লক্ষ্য স্বপ্নের শেষ সিঁড়িতে পা দেওয়া। আর্শিয়ার স্বপ্ন গ্র্যান্ড মাস্টার হওয়া। রাজ্যের দাবা প্রেমীরা বিশ্বাস করেন আগামী এক বছরের মধ্যেই স্বপ্ন পূরণ হয়ে যাবে আর্শিয়ার। রাজ্য দাবা সংস্থার সভাপতি অভিজিৎ মৌলিক অভিনন্দন জানিয়েছেন আর্শিয়াকে। তিনি বিশ্বাস করেন, আর্শিয়ার এই দুরন্ত সাফল্য ত্রিপুরার দাবাকে আরও কয়েক কদম এগিয়ে নিয়ে যাবে। পাশাপাশি উৎসাহিত হবে নতুন প্রজন্ম। যা ত্রিপুরার দাবা ইতিহাসে আসবে জোয়ার। রাজ্য দাবা সংস্থার পক্ষ থেকে সংবর্ধনা জানানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। রাজ্য সংস্থার সচিব মিঠু দেবনাথ অভিনন্দন জানিয়েছেন আর্শিয়া এবং তার বাবা-মাকে। তিনি বলেন, কঠোর পরিশ্রম এবং অধ্যাবসায়ের পুরস্কার পেলো আর্শিয়া। আরও এগিয়ে যাক সে এই কামনা করি। মহিলা আন্তর্জাতিক মাস্টারের সম্মান পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনন্দনের বন্যায় ভাসতে শুরু করেছে পূর্বোত্তোরের গর্ব ওই বালিকা দাবাড়ুটি। আর্শিয়াকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ওর কোচ ফিডে মাস্টার প্রসেনজিৎ দত্ত। খুশির মধ্যেও দুশ্চিন্তা অনেকটা গ্রাস করছে আর্শিয়ার পরিবারকে। গ্র‌্যান্ড মাস্টার হওয়া স্বপ্ন পূরণ করতে হলে দরকার প্রচুর অর্থের। বিদেশের মাটিতে বেশ কিছু আসর খেলতে হবে তাকে। এই টাকা কোথা থেকে আসবে তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আর্শিয়ার পরিবার। কোনও সহৃদয় ব্যক্তি বা সংস্থা যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে অতিসত্বরই স্বপ্ন পূরণ হবে আর্শিয়ার। তা মনে প্রানে বিশ্বাস করেন আর্শিয়ার বাবা পূর্ণেন্দু দাস। তাই রাজ্যের আপামর জনগণের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন। আসরের শেষ রাউন্ডে এক গ্র্যান্ড মাস্টার দাবাড়ুকে পরাজিত করে স্বপ্নের সিনিতে পা দিয় ফেললো আর্শিয়া। পেয়ে গেলো প্রথম গ্র্যান্ড মাস্টার নর্মও। ফলে আর্শিয়ার সাফল্যের মুকুটে জুড়তে চলেছে আরেকটি রঙিন পালক। স্বপ্ম পূরণ করতে বদ্ভপরিকর আর্শিয়াও।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *