Tripura Sports: ত্রিপুরার ক্রীড়া মানচিত্রে নতুন ইতিহাস।রাজ্যজুড়ে খেলোয়ারদের পদকের লড়াই।

IMG 20260221 230737 1

টিএসএন ডেস্ক আগরতলা: ত্রিপুরার ক্রীড়া জগতের মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সূচনা হলো। রবিবার থেকে রাজ্যে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘প্রথম রাজ্য গেমস ২০২৬’। রাজ্যের তৃণমূল স্তরের প্রতিভাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই মেগা ইভেন্টের উদ্বোধন করেন রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের আটটি জেলার তিন হাজারেরও বেশি অ্যাথলিট এই ক্রীড়া মহাযজ্ঞে অংশ নিয়েছেন।
প্রথমবার স্টিপলচেস ও ম্যাসকট রেলি এবারের গেমসের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ ছিল সোমবার বিকেলে বাধারঘাট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ৩০০০ মিটার স্টিপলচেস। ত্রিপুরার অ্যাথলেটিক্সের ইতিহাসে এই ইভেন্টটি এবারই প্রথমবার অনুষ্ঠিত হলো, যা ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। এর আগে ১৩ থেকে ১৫ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ম্যাসকট রেলি আয়োজিত হয়, যা জেলাভ্রমণ শেষে আগরতলায় ফিরে এসে গেমসের উন্মাদনা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
স্কোয়াশ: সেমিফাইনালের পথে তারকারা এগোচ্ছেন। আসাম রাইফেলস কমপ্লেক্সে আয়োজিত স্কোয়াশ প্রতিযোগিতার পুরুষদের কোয়ার্টার ফাইনালে দাপট দেখালেন পশ্চিম জেলার খেলোয়াড়রা। করণ সিং ১১-৩, ১১-৪ ব্যবধানে হারিয়েছেন শচীন কুমারকে। রৌনক আচার্য সরাসরি সেটে জয়ী হয়েছেন খোয়াইয়ের প্রসেনজিৎ চৌধুরীর বিরুদ্ধে।
অন্যান্য ম্যাচে জয় পেয়েছেন গোমতির অমরজিৎ দাস এবং পশ্চিম জেলার বিকাশ কুমার।
অ্যাথলেটিক্সে দ্রুততমা মানবী ঝর্না। বাধারঘাটের ট্র্যাকে ঝড় তুলে মহিলাদের ১০০ মিটার দৌড়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে রাজ্যের দ্রুততমা মানবীর শিরোপা ছিনিয়ে নিয়েছেন সিপাহীজলার ঝর্না দেবনাথ। এই ইভেন্টে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন পশ্চিম জেলার রিয়া দাস এবং তৃতীয় হয়েছেন গোমতির অনামিকা পাল।
এক নজরে পরিকাঠামো ও ভেন্যু
রাজ্যজুড়ে মোট ১৮টি ডিসিপ্লিনে প্রতিযোগিতা চলছে। এন এস আর সি সি-তে জুডো, টেবিল টেনিস, বক্সিং, বাস্কেটবল, ব্যাডমিন্টন ও জিমন্যাস্টিক্স।
বাধারঘাট কমপ্লেক্স: হকি, অ্যাথলেটিক্স, হ্যান্ডবল ও ভলিবল। উদয়পুরে কাবাডি, বিলোনিয়ায় ফুটবল, ধর্মনগরে খো খো এবং বিএসএফ শালবাগানে গলফ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খেলোয়ারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। চলছে পদক জয়ের লড়াই।
আগামীকাল (মঙ্গলবার) পর্যন্ত চলবে এই ক্রীড়া উৎসব। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে রাজ্যের সমস্ত ক্রীড়াপ্রেমী মানুষকে মাঠে উপস্থিত থেকে খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। মাঠের লড়াই আর গ্যালারির উন্মাদনা মিলিয়ে ত্রিপুরা এখন প্রকৃত অর্থেই ক্রীড়াময়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *